দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা আলেকজান্দ্রুপোলিস এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নতুন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) অবকাঠামোর মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খবর ইউরো নিউজ।
জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গ্রিসের আলেকজান্দ্রুপোলিস শহর এখন এ কৌশলগত পরিবর্তনের মূল কেন্দ্র। এখানে এমনসব অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা গ্যাস মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয় পৌঁছবে। আগে এসব দেশ পুরোপুরি রুশ পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
ইইউ বর্তমানে তাদের পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনীতি বা গ্রিন ট্রানজিশনের ওপর জোর দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থিতিশীলতা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখতে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জন্য বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাসের প্রয়োজন হবে। গ্রিস তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং নতুন নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে সে চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
এ মহাপরিকল্পনার একটি বড় অংশ হলো ‘ভার্টিকল করিডোর’ বা লম্বালম্বি গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিসের এলএনজি টার্মিনালগুলো বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এটি হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও মলদোভাতেও গ্যাস সরবরাহের পথ তৈরি করবে। এ করিডোর চালুর মাধ্যমে গ্রিস শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং ইইউর ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়িয়ে তুলছে।
গ্রিসের জ্বালানি কোম্পানি গ্যাস্ট্রেড এখন আলেকজান্দ্রুপোলিসে তাদের দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) তৈরির পরিকল্পনা করছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘এফএসআরইউ থ্রেস’। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ এর বিপুল নির্মাণ ব্যয়। প্রায় ৬০ কোটি ইউরো ব্যয়ের প্রকল্পটির জন্য এখন ইউরোপীয় তহবিল বা সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাসেলসে এ অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। ইউরোপীয় কমিশন এখন জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নে বেশি আগ্রহী। তবে গ্রিস ও রোমানিয়ার মতো দেশগুলো বলছে, স্থিতিশীলতার জন্য গ্যাসের বিকল্প নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এ প্রকল্পে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। মার্কিন এলএনজি রফতানি বাড়াতে দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিসের এ টার্মিনাল নির্মাণে অর্থায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী বছরগুলোয় গ্রিসের এ জ্বালানি হাবের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে ইউরোপ কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে।